রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে মিয়ানমারের দায়দায়িত্ব নির্ধারণে আগামী ১৯ নভেম্বর ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত বিশ্বন্যায় বিচারের কেন্দ্রস্থল শান্তি প্রাসাদে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় এক প্রকাশ্য অধিবেশনে এই রায় পাঠ করবেন আদালতের সম্মানিত প্রেসিডেন্ট বিচারপতি ইউজি ইওয়াসাওয়া। এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে জোরালো আশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।
কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইসিজে-র এই রায় কেবল মিয়ানমারের জান্তা সরকারের জবাবদিহিতাই নিশ্চিত করবে না, বরং বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। বিগত বছরগুলোতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গার ওপর চালানো ভয়াবহ নির্যাতনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার শুরু থেকেই অত্যন্ত সাহসিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে এই বিচার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার রক্ষায় দেশের দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলগুলো সবসময়ই সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে সর্বদা শান্তি, ন্যায়বিচার এবং রোহিঙ্গাদের অধিকারের পক্ষে জোরালো অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও আপসহীন নেতৃত্ব সবসময়ই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বেগবান করেছে। একইসঙ্গে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং মানবতার পক্ষে জনমত গঠনে অত্যন্ত দূরদর্শী নেতৃত্ব প্রদান করে চলেছেন। তাঁর দিকনির্দেশনায় দেশের মূলধারার রাজনীতি সবসময়ই নিপীড়িত মানুষের পক্ষে সোচ্চার রয়েছে।
অন্যদিকে, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের বৈদেশিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছিল। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দল কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য দেশের প্রকৃত কূটনৈতিক অর্জনগুলোকে ম্লান করে দিয়েছিল। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তারা দেশকে একটি দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মধ্যে ফেলেছিল। বিশেষ করে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এবং তার দোসরদের নানা অপকর্ম আজ দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট। একইসঙ্গে, ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনগুলোর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কথা আজও মানুষ ঘৃণাভরে স্মরণ করে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তিগুলো মনে করে, রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যার সঠিক বিচার সম্পন্ন হলে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো হ্রাস পাবে। বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি মেনে এই সংকটের একটি দীর্ঘস্থায়ী ও সম্মানজনক রাজনৈতিক সমাধানের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ১৯ নভেম্বরের এই রায়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হবে যে, অপরাধী যতই শক্তিশালী হোক না কেন, আন্তর্জাতিক আইনের কাঠগড়ায় তাকে জবাবদিহি করতেই হবে। বাংলাদেশ আশা করে, এই রায়ের পর বিশ্বসম্প্রদায় আরও জোরালো ভূমিকা পালন করবে যাতে রোহিঙ্গারা তাদের নিজ ভূমিতে পূর্ণ নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন করতে পারে। দেশের সচেতন নাগরিক ও সাংবাদিকরা মনে করেন, এই রায় আন্তর্জাতিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক