নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা ও কৌশলগত স্বার্থ হাসিলে যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো অপরাধমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে, এমনকি ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলা চালাতেও পিছপা হবে না বলে আশঙ্কা করছে তেহরান। তবে এ ধরনের যে কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ মোকাবেলার জন্য তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত। বর্তমান আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে, তার পেছনে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী নীতিই প্রধানত দায়ী বলে মনে করে ইরান।
সম্প্রতি কূটনৈতিক এক বৈঠকে অংশ নিয়ে ইরানের রাষ্ট্রদূত এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত দিনেও বিভিন্ন দেশের ওপর সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর অন্যায় খবরদারি এবং সামরিক আগ্রাসনের ইতিহাস রয়েছে। তবে পারমাণবিক শক্তি কিংবা আধুনিক অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে স্বাধীনতাকামী জাতিকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সবসময় এর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং যে কোনো মুহূর্তে তা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের পেছনে আমেরিকার প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। যে কোনো বাহ্যিক আগ্রাসন প্রতিহত করতে দেশের জনগণ ও সরকার ঐক্যবদ্ধ বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে। বিশ্বমঞ্চে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির যে কোনো বেআইনি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে বিশ্ব বিবেককে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এই ইরানি কূটনীতিক।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক