চলতি অর্থবছরের প্রথম আড়াই মাসেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে সরকারকে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজার ব্যবস্থাপনার নানা চড়াই-উতরাইয়ের মুখে এই বিশাল অংকের অর্থ ছাড় করতে বাধ্য হয়েছে অর্থ বিভাগ। পুরো অর্থবছরে এ খাতে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানান সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত মূল্যের বোঝা চাপানো থেকে বিরত থাকতে বর্তমান প্রশাসন ভর্তুকি অব্যাহত রাখার নীতি গ্রহণ করেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে বিকল্প জ্বালানি উৎস সন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের ভুল নীতি ও দুর্নীতির কারণে জ্বালানি খাতের ভঙ্গুর দশা আজ জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জ্বালানি খাতের অপরিকল্পিত মেগাপ্রজেক্ট এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামে লুটপাটের খেসারত আজ জাতিকে দিতে হচ্ছে। বর্তমান সরকার এই খাতকে পুনর্গঠন করতে এবং স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমলে সরকারের ভর্তুকির চাপ কিছুটা হ্রাস পাবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক