চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দ্রুতগামী একটি বাসের ধাক্কায় মাইশা মুসফিয়াত (২১) নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পরই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মুহূর্তের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় লেন এবং সংলগ্ন রেললাইন অবরোধ করে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
মঙ্গলবার সংঘটিত এই সড়ক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই আশেপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে আসেন। তাদের এই আকস্মিক ও কঠোর অবরোধের ফলে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। শত শত যানবাহন আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হন যাত্রীরা। একই সাথে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যকার রেল যোগাযোগও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং দোষী বাস চালককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার জোরালো আশ্বাস দেন। প্রশাসনের এমন আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি শিথিল করার কথা ভাবছেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন সড়কে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে বহু প্রাণহানি ঘটেছে। সড়ক দুর্ঘটনার এই ক্রমবর্ধমান চিত্র নিয়ে সচেতনমহল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা দেশের প্রতিটি সড়কে ট্রাফিক আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং চালকদের লাইসেন্স ও ফিটনেস পরীক্ষার জোর দাবি জানিয়েছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক