কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটের কাছে মানুষ তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো উচিত কি না, তা নিয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও আইনি মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ঘটনায় দেখা গেছে যে, ব্যবহারকারীরা তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা মানসিক কষ্টের কথা বলতে গিয়ে এআই চ্যাটবটের কাছে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্য পুলিশকে জানানো বা না জানানোর বিষয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় পর্যায়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক আইন বা নীতিমালা তৈরি হয়নি, যা বিষয়টিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই ব্যবস্থার ওপর মানুষের ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা এক নতুন নৈতিক সংকটের জন্ম দিচ্ছে। একদিকে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তার অধিকার রক্ষা করা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নৈতিক দায়িত্ব, অন্যদিকে সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গুরুতর অপরাধের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো নৈতিক ও সামাজিক কর্তব্য হয়ে দাঁড়াতে পারে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিষয়ে নিজেদের মতো করে নীতিমালা প্রণয়নের চেষ্টা করলেও কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। ফলে অপরাধের তথ্য এআই চ্যাটবটের সার্ভারে সংরক্ষিত থাকলেও তা পুলিশের নাগালের বাইরেই থেকে যাচ্ছে।
এই জটিল পরিস্থিতিতে মানবাধিকার কর্মী এবং আইন বিশেষজ্ঞরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এক পক্ষ মনে করছে, ব্যবহারকারীর ডেটা যদি পুলিশকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরবরাহ করা হয়, তবে তা মানুষের গোপনীয়তার মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করবে এবং মানুষ এআইয়ের কাছে খোলাখুলি কথা বলতে ভয় পাবে। অন্যদিকে, অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দাবি, গুরুতর অপরাধ বা সহিংসতার পরিকল্পনা যদি এআই চ্যাটবটের মাধ্যমে জানা যায়, তবে তা প্রতিরোধের জন্য প্রযুক্তি কোম্পানির দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আগামী দিনে এ বিষয়ে কঠোর আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা না হলে প্রযুক্তি এবং বিচারব্যবস্থার দ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক