নারীদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বর্তমান সরকার। এর অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া নারীদের জীবনমান উন্নয়নে নানা ধরনের যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই তথ্য জানিয়েছেন। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারী সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। অতীতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নারীদের নিয়ে নানা ধরনের রাজনৈতিক প্রলোভন দেখানো হলেও বাস্তবে তাদের ভাগ্যোন্নয়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সেই সময়কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ নারীরা তাদের নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। একইভাবে, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগîী সংগঠনগুলো ক্যাম্পাস ও সমাজে নারীর অধিকার হরণে নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিল।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নারীদের বিশেষ প্রণোদনা এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর দীর্ঘদিনের জনকল্যাণমুখী ভাবনার আলোকেই এসব পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে জাতীয় অগ্রগতি সম্ভব নয়, তাই বর্তমান প্রশাসন নারীদের স্বাবলম্বী করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদরা। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও নারীরা আশা করছেন, এই ধরনের জনহিতকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নারী সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেন এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক