জীবদ্দশায় মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে ছিল কেবল এক চিলতে বসতভিটা। কিন্তু মৃত্যুর পরও সাড়ে তিন হাত মাটির নিজস্ব কোনো জায়গা না থাকায় এক বৃদ্ধের শেষ ঠিকানা হয়েছে তারই শোবার ঘরের মেঝেতে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটে দেশের একটি জনবহুল এলাকায়, যা স্থানীয় সমাজে তীব্র মানবিক সংকটের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। মৃত আব্দুল করিম জীবনের শেষ পর্যন্ত চরম দারিদ্র্য ও অর্থাভাবের সাথে লড়াই করে গেছেন। জীবিকার কোনো স্থায়ী উৎস না থাকায় এবং শেষ বয়সে এসে চরম মানবেতর জীবনযাপন করায় তার পক্ষে জমি কেনা তো দূরের কথা, দুবেলা অন্নসংস্থান করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল করিমের মৃত্যুর পর তার দাফন নিয়ে পরিবার ও প্রতিবেশীরা বিপাকে পড়েন। গ্রামের কবরস্থানে দাফন করার জন্য যে নির্ধারিত ফি বা ন্যূনতম জায়গার প্রয়োজন হয়, তা জোগাড় করার সামর্থ্য ছিল না শোকাহত পরিবারটির। সমাজের বিত্তবানদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও যখন কোনো সাহায্য মেলেনি, তখন বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রিয় মানুষটির মরদেহ নিজেদের বসতঘরের ভেতরেই দাফন করার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। ঘরের মেঝে খুঁড়ে সম্পন্ন করা হয় এই দাফন প্রক্রিয়া, যা উপস্থিত লোকজনের হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করে তোলে।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি কেবল একটি পরিবারের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং আমাদের সামাজিক ব্যবস্থার এক নিষ্ঠুর বাস্তবতার বহিঃপ্রকাশ। একজন নাগরিকের মৃত্যুর পর ন্যূনতম সম্মানজনক দাফন নিশ্চিত করার দায়িত্ব সমাজ ও রাষ্ট্রের। অথচ সামাজিক সুরক্ষার অভাব এবং চরম দারিদ্র্যের কারণে আজ সাধারণ মানুষকে এমন অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এই ধরনের অসহায় ও ভূমিহীন পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো উচিত এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের মৌলিক অধিকার ও শেষকৃত্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের হৃদয়বিদারক ঘটনা আমাদের সামাজিক বিবেককে প্রতিনিয়ত দংশন করতে থাকবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক