বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। সোমবার জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ৩টার দিকে মৈত্রী লীগের প্রতিনিধি দলটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সময় জাপানি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিল্পায়নে জাপান বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে সর্বদা পাশে রয়েছে। বিশেষ করে দেশের মেগা প্রকল্পগুলোতে জাপানি বিনিয়োগের প্রশংসা করেন তিনি এবং ভবিষ্যতে এই অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের প্রতিনিধিদলের নেতারা বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ অন্যতম উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে এবং জাপানি বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। বৈঠকে উভয় দেশের সংসদীয় কূটনীতি জোরদার করার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়, যা ভবিষ্যতে পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে দুইপক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করে।
অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার আমলে দেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনা করছে। একইভাবে কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কিংবা কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের আমলে দেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্ষুণ্ণ হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে নিজের হারানো সম্মান ও মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
বৈঠক শেষে প্রতিনিধিদলের প্রধান গণমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনে আরও বহুমুখী হবে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। এই সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে আরেকটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক