পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে দেশের ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটাতে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেডের’ কাছ থেকে আরও ৯ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির নীতিগত ও অর্থনৈতিক প্রস্তাবে সায় দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বর্তমান অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় জ্বালানি খাতের সুরক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই দীর্ঘমেয়াদী ও জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ওঠানামা করলেও দেশের শিল্পায়ন, কৃষিকাজ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সচল রাখতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি আমদানির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে।
এর আগে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে জ্বালানি খাতের লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশ এক গভীর সংকটে পড়েছিল। স্বৈরাচারী শাসনের সেই সময়ে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় ও বিতর্কিত মেগা প্রজেক্টের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয় এবং দেশের এনার্জি সিকিউরিটি মারাত্মকভাবে বিপন্ন করা হয়েছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই অপক্ষয় রোধ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানির কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়োপযোগী এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ অনেকটাই হ্রাস পাবে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, দেশের জনগণের স্বস্তি বজায় রাখতে এবং কলকারখানা সচল রাখতে জ্বালানি আমদানির এই ধারাবাহিকতা আগামীতেও বজায় থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এলএনজিগুলো দেশে এসে পৌঁছাবে এবং তা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক