চট্টগ্রামে ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে চলা মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বর্তমানে ১৭টি বড় কারখানা পুরোদমে উৎপাদনে রয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এসব কারখানায় কাজ করছেন প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী। এ ছাড়া আরো ২৪টি কারখানার নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে, যা অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের কর্মসংস্থানের পরিধি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে এবং শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এই মেগাপ্রজেক্টটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
তবে এত বড় একটি শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠলেও এখানে শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের জন্য এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ আধুনিক হাসপাতাল বা উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। ফলে সামান্য দুর্ঘটনা বা জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনে শ্রমিকদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদর বা জেলা শহরের হাসপাতালে যেতে হয়, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে ভারী শিল্প কারখানায় কাজ করার সময় প্রায়ই বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, যেখানে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসার এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেক সময় সাধারণ জখমও বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
স্থানীয় শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা জরুরি। দ্রুত এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালুর পর চিকিৎসাসেবার সংকট প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও শিল্প উদ্যোক্তাদের যৌথ উদ্যোগে শ্রমিকদের এই মৌলিক স্বাস্থ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেই প্রত্যাশা করছেন সবাই।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক