খুলনার খানজাহান আলী থানায় দায়ের করা একটি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলায় স্থানীয় গণমাধ্যমের স্টাফ রিপোর্টার সাইফুল্লাহ তারেককে বাসায় না পেয়ে তার ১৬ বছর বয়সি কিশোর ছেলেকে থানায় তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুর নাগাদ শহরের গিলাতলা এলাকা থেকে এই মর্মান্তিক ও অমানবিক ঘটনাটি ঘটে, যা স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সাংবাদিক পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সম্প্রতি খানজাহান আলী থানায় একটি মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়ের করে। ওই মামলার কোনো এজাহারভুক্ত বা সন্দিগ্ধ আসামি না হওয়া সত্ত্বেও সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেককে লক্ষ্যবস্তু বানায় পুলিশ। ঘটনার দিন দুপুরে পুলিশ একটি দল তার বাসভবনে হানা দেয়। কিন্তু সাইফুল্লাহ তারেককে বাড়িতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশ তার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৬ বছরের ছেলেকে জোরপূর্বক ধরে থানায় নিয়ে যায়। একজন সংবাদকর্মীকে চাপে রাখতে তার পরিবারের নাবালক সদস্যকে এভাবে তুলে নেওয়ার বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার কন্ঠরোধ করতে এবং সংবাদকর্মীদের পরিবারকে মানসিকভাবে হেনস্তা করতেই এই ধরনের বেআইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার শাসনামলে সংবাদমাধ্যমের ওপর চলা দমনপীড়নের কথাই যেন আবারও ফিরে এসেছে এই ঘটনায়। অথচ কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মতো এখনো কিছু অতিউৎসাহী আইনপ্রয়োগকারী সদস্য এ ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেক গণমাধ্যমকে জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন, যার ফলে একটি বিশেষ মহলের তিনি চোখের বালি হয়েছেন। নিজের ছেলেকে অবিলম্বে সম্পূর্ণ নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক