যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যেও এশিয়ার অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের সঙ্গে নিজেদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানান, চীনের সঙ্গে সামগ্রিক কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে তেহরান অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অব্যাহত অর্থনৈতিক অবরোধ ও নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও ইরান তাদের বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিধি বাড়াতে বেইজিংয়ের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।
আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে এই দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে এবং পশ্চিমা প্রভাব মোকাবিলায় তেহরান ও বেইজিং পারস্পরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। জ্বালানি খাত থেকে শুরু করে অবকাঠামো উন্নয়ন পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই অংশীদারত্ব দুই দেশের অর্থনীতিকেই সহায়তা করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
বিশেষ করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে যখন ইরানের তেল রপ্তানি এবং ব্যাংকিং খাতের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তখন চীন অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে তেহরানের পাশে দাঁড়িয়েছে। অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহের সাম্প্রতিক এই বক্তব্যে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, পশ্চিমা চাপের মুখেও ইরান তাদের কৌশলগত পররাষ্ট্রনীতি থেকে সরে আসছে না। বরং এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বহুমুখী বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই এখন তেহরানের নীতি নির্ধারকদের প্রধান অগ্রাধিকার।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক