কুমিল্লা জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযানে আবারও বড় ধরণের সাফল্য অর্জিত হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য সন্দেহে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ২৫৪ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে জেলার ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরবর্তীতে রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন এবং গণমাধ্যমকে জানান যে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। ইভটিজিং, মাদক সেবন, ছিনতাই, এবং তুচ্ছ ঘটনায় মারামারি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছিল এই কিশোররা। স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং অভিভাবকদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তরুণ প্রজন্মকে অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
শনিবার রাতের এই সাঁড়াশি অভিযানে জেলার আদর্শ সদর, বুড়িচং, ব্রাক্ষ্মণপাড়া, চান্দিনা, দেবীদ্বার, মুরাদনগর, হোমনা, তিতাস, মেঘনা, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, বরুড়া, নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রামসহ ১৮টি থানার বিভিন্ন অলিগলি, পার্ক, এবং সন্দেহভাজন আড্ডাগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। আটককৃতদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং তরুণ। তাদের থানা হেফাজতে রেখে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণ মিলবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর যারা তুলনামূলক কম অপরাধের সাথে জড়িত বা প্রথমবার ভুল করেছে, তাদের অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জিম্মায় কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিভাবক ও সচেতন মহল পুলিশের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানোর দাবি জানিয়েছেন যাতে যুব সমাজ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক