বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অল্প সময়ের মধ্যে দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। তিনি জানান, জনজীবন যখন চরম সংকটাপন্ন, ঠিক সেই সময়ে জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, গত ১৮ এপ্রিল প্রথম দফায়, ৩১ মে দ্বিতীয় দফায় এবং সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর তৃতীয় দফায় জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের নামে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা কোনোভাবেই সাধারণ মানুষ সহ্য করতে পারছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতে এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করা আবশ্যক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জ্বালানি তেলের লাগামহীন দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিলেট মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিলে তিনি এসব কথা বলেন। মিছিলে দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন এবং দ্রুত জ্বালানি তেলের মূল্য কমানোর দাবি জানান। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল।
বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো নানাভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ও কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া অনিয়ম ও দুর্নীতির খেসারত আজ দেশের সাধারণ জনগণকে দিতে হচ্ছে। অতীতে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগী সংগঠন যেমন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগ যেভাবে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছিল, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তা থেকে বেরিয়ে এসে জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় জনগণ রাজপথে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন জামায়াত নেতারা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক