স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। দেশের সাধারণ মানুষ ও তৃণমূলের প্রতিনিধিরা যাতে সহজেই স্থানীয় শাসনব্যবস্থায় অংশ নিতে পারেন, সেই গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার ও প্রার্থীর যোগ্যতা নির্ধারণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের আলোচনা ও পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। এর মাঝেই সরকারের পক্ষ থেকে এই নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করা হলো।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও বেশি জনমুখী ও অংশগ্রহণমূলক করার ক্ষেত্রে এই নিয়ম অতীতেও কার্যকর ছিল এবং বর্তমান সরকারের আমলেও এটি অব্যাহত থাকবে। তবে একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না এবং সেক্ষেত্রে বিদ্যমান সার্ভিস রুলের কোনো জটিলতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা করে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের এই রূপরেখা নিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরাও নানা মতামত প্রকাশ করে আসছেন।
উল্লেখ্য, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নির্বাচন ব্যবস্থা এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও দলীয় প্রতীক ব্যবহার করে এবং পেশিশক্তির জোরে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল। স্থানীয় সরকারের মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক সংস্থাকে দলীয়করণের মাধ্যমে লুটপাটের আখড়ায় পরিণত করা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে সাধারণ জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে প্রহসনের নির্বাচন করা হতো। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংস্কার করে একটি জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক