কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নারিকেলী ও সাদা জাতের কচু চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা। পুষ্টিকর ও নিরাপদ উৎপাদন এবং ধানের চেয়ে চার গুণের বেশি লাভজনক হওয়ায়, কচু চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন এ এলাকার কৃষকরা। ফলে, কুলিয়ারচর উপজেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে এই লাভজনক ফসলের আবাদ। স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কম খরচে অধিক ফলন পাওয়ার কারণে কচু চাষ এখন এ অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে।
শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটানোই নয়, এখানকার উৎপাদিত কচু ও লতি এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় বড় বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে চাষিরা পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করতে সক্ষম হচ্ছেন। এতে উৎপাদিত কচুর মানও বেশ ভালো হচ্ছে। একসময় যেসব জমিতে শুধু ধান চাষ করা হতো এবং কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া যেত না, বর্তমানে সেসব জমিতে কচু চাষ করে কৃষকরা অধিক মুনাফা অর্জন করছেন।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এ ধরনের কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কৃষকদের মাঝে সার, বীজ এবং আধুনিক কৃষি সরঞ্জাম সহজে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে কৃষিবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখছে। কুলিয়ারচরের এই সফল কচু চাষ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও বেকারত্ব দূরীকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক