নিউইয়র্কের ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়ামে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন সংরক্ষণ করা হয়েছে। মাটির প্রায় ৭০ ফুট নিচে রাখা হয়েছে পুড়ে যাওয়া ফায়ার ট্রাক, বিকৃত ইস্পাতের বিম, দমকলকর্মীদের হেলমেট, নিহতদের ঘড়ি এবং ছিনতাই হওয়া বিমানের যাত্রীদের শেষ বার্তা। দর্শনার্থীরা যখন এই ভূগর্ভস্থ জাদুঘরে প্রবেশ করেন, তখন এক গভীর শোক ও বিষাদের আবহ তাদের গ্রাস করে। কিন্তু এই বিশাল আয়োজন সত্ত্বেও, এই জাদুঘরে হামলার পেছনের প্রকৃত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল ইতিহাস অনেকাংশেই অনুপস্থিত রয়ে গেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
সাংবাদিকদের বলেছেন, এই জাদুঘরটি কেবল একটি নির্দিষ্ট দিনের ট্র্যাজেডি এবং মার্কিন জনগণের শোক ও আবেগকে ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সফল হলেও, এর নেপথ্য কারণগুলো নিয়ে আরও বিশদ পর্যালোচনার সুযোগ ছিল। ২০০১ সালের ওই ভয়াবহ ঘটনার পর বৈশ্বিক রাজনীতিতে যে ধরনের বড় পরিবর্তন এসেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যে সংঘাতের সূচনা হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক দলিল এখানে খুঁজে পাওয়া কঠিন। দর্শনার্থীরা কেবল ঘটনার ধ্বংসলীলা এবং এর পরিণতি দেখতে পান, কিন্তু কেন এই ঘটনা ঘটেছিল বা এর দীর্ঘমেয়াদী ভূরাজনৈতিক প্রভাব কী ছিল, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বস্তুনিষ্ঠ দিকনির্দেশনা এই প্রদর্শনীতে নেই বললেই চলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি আন্তর্জাতিক মানের স্মৃতি জাদুঘরে কেবল আবেগপ্রবণ উপাদানের পাশাপাশি নিরপেক্ষ এবং পূর্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক সত্য তুলে ধরা সমানভাবে জরুরি। ৯/১১ জাদুঘরটি মার্কিন নাগরিকদের আবেগ এবং হতাহতদের স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করলেও, এর প্রদর্শনীর পরিধি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা সময় নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এই জাদুঘরে আরও বিস্তৃত পরিসরে পূর্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট যুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে। পরিশেষে, এই জাদুঘরটি ইতিহাসের একটি করুণ অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যা প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়ে দেয় বিশ্ব রাজনীতির এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মর্মান্তিক মুহূর্তকে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক