দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে বিদেশে অর্থ পাচারের ঘটনায় জড়িত ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর আওতায় পরিচালিত অনুসন্ধানে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গ্রুপ বসুন্ধরা ও এস আলম গ্রুপের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা। পাশাপাশি এই অর্থপাচারের নেপথ্যে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন নীতিনির্ধারক ও প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ মদদ ছিল বলে গণমাধ্যমকে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, বিগত বছরগুলোতে ব্যাংক খাত থেকে নিয়মের তোয়াক্কা না করে হাজার হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়া হয়েছে। হুন্ডি ও বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে এই অর্থ। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই অর্থপাচারের ফলে দেশের ভেতরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মারাত্মকভাবে সংকটে পড়েছিল, যার নেতিবাচক প্রভাব এখনও বয়ে বেড়াচ্ছে সাধারণ জনগণ। বিশেষ করে আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে এই চিহ্নিতকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা আমলের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটগুলো কীভাবে দেশের অর্থনীতিকে শোষণ করেছে, তার বিস্তারিত বিবরণ উঠে আসছে একের পর এক অনুসন্ধানে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অভিযুক্তদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কার্যকর আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে সরকারের উচ্চপর্যায়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক