একই মাটিতে শৈশব কেটেছে দুই ভাইয়ের। একই শহরের অলিগলি, একই আকাশ, একই মাটির গন্ধে বেড়ে ওঠা। সেই পরিবারের বড় ছেলে আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। আর ছোট ভাই হিসেবে সেই মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে আবেগে আপ্লুত মির্জা ফয়সল আমিন। সাংবাদিকদের কাছে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জানান, এই প্রাপ্তি কেবল তাদের পরিবারের নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জন্য এক বিরাট গৌরবের বিষয়।
শৈশবের দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, একসাথে পথচলা দুই ভাইয়ের জীবনের এই উচ্চাসনে পৌঁছানো এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে এসে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়ার এই যাত্রায় বড় ভাইয়ের সততা, নিষ্ঠা ও আদর্শ সবসময় তাদের পথ দেখিয়েছে। ছোট ভাই হিসেবে এই সাফল্যের সাক্ষী হওয়া এবং বড় ভাইকে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখা অত্যন্ত গর্বের ও সম্মানের একটি বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে এই ঘটনাটি এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলের ব্যক্তিরা এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। মির্জা ফয়সল আমিন আশা প্রকাশ করেন যে, তার বড় ভাই দেশের সংবিধান রক্ষা এবং জনগণের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত সফলভাবে পালন করবেন।
এই পুরো প্রক্রিয়াটির পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের ইতিহাস। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে এক নতুন ধারার সূচনা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ধারায় দেশের শীর্ষ পদে এমন একজন ব্যক্তির আসীন হওয়া নিয়ে দেশজুড়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। এদিকে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন যেমন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কিংবা কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগ অতীতে যেসব দমনপীড়ন চালিয়েছিল, তা থেকে উত্তরণের পর এখন একটি নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় সামনে এসেছে।
সব মিলিয়ে, দুই ভাইয়ের এই পারিবারিক বন্ধন এবং দেশের সর্বোচ্চ পদে একজনের পৌঁছানোর বিষয়টি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মির্জা ফয়সল আমিনের এই আবেগঘন অভিব্যক্তি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বেশ নাড়া দিয়েছে এবং তা গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক