কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ আবাসিক এলাকায় ছেলের বাসায় আরফা খাতুন (৭৫) নামের এক মাকে ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা কেবল একটি পরিবারকেই ধ্বংস করেনি, বরং সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়কেও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিহত বৃদ্ধা আরফা খাতুন নিজের ৬৫ কড়া জমি তাঁর মেয়েকে হেবা বা দান করে দিয়েছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর ছেলে এবং পুত্রবধূ মারাত্মক ক্ষুব্ধ হন। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক এই বিরোধ চলতে থাকে এবং এর জেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার দিন কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলে ও পুত্রবধূ বৃদ্ধা মাকে ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে যে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং খুব শীঘ্রই আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে আসল সত্য উদ্ঘাটন করা হবে।
এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন সমাজবিশ্লেষকরা। পারিবারিক সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে আইনি ও সামাজিক মধ্যস্থতার বিকল্প নেই বলে তারা মনে করেন। চকরিয়ায় ঘটিত এই পৈশাচিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয়রা অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক