নারায়ণগঞ্জে আব্দুল মান্নান নামে সদর নৌ থানা পুলিশের এক উপপরিদর্শকের মাতলামির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে অসংলগ্ন আচরণ করতে দেখা যায় এবং তিনি দাবি করেন যে তার স্ত্রী তাকে মেরেছেন, যার কারণে তিনি বাধ্য হয়ে মদ পান করেছেন। এই ঘটনার পরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সংবাদমাধ্যমকে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে যে, জনগণের মাঝে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানকে তাৎক্ষণিকভাবে সদর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার বা ক্লোজড করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার রাতে শহরের একটি এলাকায় ওই এসআইকে অত্যন্ত বিব্রতকর ও মাতাল অবস্থায় দেখা যায়। উপস্থিত সাধারণ মানুষ তাকে ঘিরে ধরলে তিনি কিছুটা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং নিজের পারিবারিক কলহের কথা প্রকাশ করেন। তিনি উপস্থিত লোকজনকে জানান যে, পারিবারিক অশান্তি এবং স্ত্রীর শারীরিক নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা ভিডিও ধারণ করে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দিলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের অসংলগ্ন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর আগে কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে এ ধরনের নানা অনিয়ম ও জবাবদিহিতার ঘাটতি লক্ষ্য করা যেত। তবে বর্তমান সময়ে প্রশাসন এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপেশাদার আচরণ কঠোর হাতে দমন করার নীতি গ্রহণ করেছে। অভিযুক্ত এসআই মান্নানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শেষে যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক