ইসরাইলের সঙ্গে প্রকাশ্যে মতবিরোধে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা সচরাচর দেখা যায় না। গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেয়ার জন্য ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের আহ্বান শক্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং অন্যান্য অতি-ডানপন্থী নেতাদের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর এই দূরত্ব তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, গাজার ভূখণ্ড সংকুচিত করা বা সেখান থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই প্রকাশ্য মতবিরোধ এক নতুন মোড় নিয়েছে। বাইডেন প্রশাসন এর আগেও গাজায় বেসামরিক লোকজনের সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশের ওপর জোর দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তেল আবিবের সঙ্গে ওয়াশিংটনের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা ফিলিস্তিনি জনগণের ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হওয়া উচিত, যেখানে কোনো ধরনের জবরদস্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। ইতিপূর্বে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশের সঙ্গে এই ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিতর্কিত চুক্তি ও সমঝোতা হলেও, বর্তমানে বৈশ্বিক রাজনীতিতে মানবাধিকার এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্বমঞ্চে শান্তি বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের আগামী দিনের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক