জনগণের মৌলিক অধিকার ও ন্যায্য দাবি আদায়ে সরকার কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করলে চলমান ছয় দফার লংমার্চ এক দফার চূড়ান্ত আন্দোলনে রূপ নেবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার সকালে রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থল মতিঝিল শাপলা চত্বরে ঐতিহাসিক লংমার্চ শুরুর প্রাক্কালে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুশিয়ারি দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ আজ তাদের অধিকার আদায়ে সচেতন এবং ঐক্যবদ্ধ। জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত স্রোতকে কোনো ধরনের অবৈধ বাধা বা দমন-পীড়ন চালিয়ে ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। যদি গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করা হয়, তবে এই লংমার্চ মুহূর্তের মধ্যেই এক দফার সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হতে বাধ্য হবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট মহлকে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে, জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং বিচারব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ দলীয়করণ করা হয়েছিল। দেশের ছাত্র-জনতা এক রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটিয়েছে। কিন্তু জনগণের অধিকার এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে, অন্যথায় জনগণ রাজপথ ছাড়বে না।
মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই লংমার্চে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, হাজার হাজার নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। চারপাশ থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা শাপলা চত্বরে জড়ো হন এবং বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন রাজপথ। লংমার্চটি নির্ধারিত রুট ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় ছিল, তবে জনস্রোতের কারণে আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা পরে স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক