বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর এবার কাশী ও মথুরার ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে হিন্দুত্ববাদীদের দাবির মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মথুরা। অযোধ্যা ও কাশীর ধাঁচে মথুরা-বৃন্দাবনেও বিশাল মন্দির চত্বর গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
শুক্রবার মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি চত্বরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন তিনি। যোগী আদিত্যনাথ বলেন, উত্তরপ্রদেশের ধর্মীয় নগরীগুলোকে তাদের প্রাচীন গৌরব ফিরিয়ে দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, মথুরা ও বৃন্দাবন তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই পরিকল্পনার আওতায় শাহী ইদগাহ মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় বড় ধরনের অবকাঠামোগত পরিবর্তন আনার কথা ভাবা হচ্ছে, যা নিয়ে স্থানীয় মহলে ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘোষণা ভারতের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বিগত বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় স্থান কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক মেরুকরণ লক্ষ্য করা গেছে, এই নতুন পরিকল্পনা সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কটি অধিকার সংগঠন। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরা এই সিদ্ধান্তকে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার আদায়ের একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক প্রতিক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট মহল মনে করিয়ে দিয়েছে যে, এই ধরনের সংবেদনশীল ইস্যুগুলোর ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া এবং সামাজিক শান্তি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ভারতের বিচারব্যবস্থায় ইতিমধ্যেই মথুরা বিতর্ক সংক্রান্ত একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে, ফলে আদালতের রায়ের আগেই এ ধরনের রাজনৈতিক ঘোষণা বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে বলেও মত প্রকাশ করেছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে মথুরা ও এর আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক