ডেটিং অ্যাপে পরিচয়। এরপর কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা দেখাসাক্ষাৎ করেছেন লেনা ও কিয়েটিল। তবে লেনা ভয় পাচ্ছিলেন যে তার সঙ্গী যখন তার বয়স জানতে পারবেন, তখন হয়তো সম্পর্কটা শেষ হয়ে যাবে। পরিচয়ের সময় লেনা তার প্রোফাইলে ইচ্ছাকৃতভাবেই বয়স উল্লেখ করেননি, কারণ তিনি প্রত্যাখ্যাত হতে চাননি। কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত যোগাযোগের পর তাদের মধ্যে একটি মানসিক সখ্যতা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে গভীর সম্পর্কে রূপ নেয়। বর্তমান যুগে প্রেমের সম্পর্কগুলোতে বয়সের ব্যবধান একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই ধরনের সম্পর্কে বোঝাপড়া কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে মনোবিজ্ঞানীদের মাঝে নানা মত রয়েছে। অনেক গবেষক মনে করেন, বয়সের ফারাক বেশি থাকলে জীবন নিয়ে অভিজ্ঞতার তারতম্য ঘটে, যা কখনো কখনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক আবার কখনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, খোলামেলা যোগাযোগ এবং বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করেই মূলত এই ধরনের সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়। লেনা ও কিয়েটিলের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে যে, বয়সের ব্যবধানের চেয়ে তাদের মানসিক মেলবন্ধন এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধই সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। সম্পর্কের শুরুতেই বয়সের বিষয়টি লুকানোর প্রবণতা অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করতে পারে, তবে পরবর্তীতে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা সম্ভব। মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, যেকোনো সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত সততা এবং একে অপরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস। বয়সের ব্যবধান যতই থাকুক না কেন, পারষ্পরিক বোঝাপড়া ঠিক থাকলে যেকোনো দম্পতিই একটি সুন্দর ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারেন। বর্তমান সমাজেও এই বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আসছে এবং মানুষ এখন বয়সের সংখ্যার চেয়ে মনের মিলকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক