সুইপার আর হারপিকটা নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করব—কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চরম অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও নানা অব্যবস্থাপনা দেখে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহানকে উদ্দেশ করে এই মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী। সম্প্রতি কুমেক হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে এর বেহাল দশা দেখে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা যায় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, শৌচাগারের অচল অবস্থা এবং রোগীদের দুর্ভোগ। এসব দৃশ্য দেখে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন মন্ত্রী। হাসপাতালের প্রশাসনিক অবহেলা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব নিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, জনগণের করের টাকায় চলা এই সেবা প্রতিষ্ঠানে এমন নোংরা পরিবেশ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে হাসপাতালের পরিবেশ উন্নত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেন তিনি।
সাংবাদিকদের বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর এবং কোনো ধরনের দুর্নীতি ও অবহেলা সহ্য করা হবে না। হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের রোগীদের সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতের প্রতিটি স্তরে যে চরম লুটপাট ও অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছিল, তার খেসারত আজও দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে চলা সেই অনিয়মের সংস্কৃতির কারণেই আজ সরকারি হাসপাতালগুলোর এই বেহাল দশা। তবে বর্তমান প্রশাসনের নীতিনির্ধারকরা এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
অন্যদিকে, কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দের বেশিরভাগ অর্থই লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগîী সংগঠনগুলো বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি চালিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই সমস্ত অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে সুশাসন প্রতিষ্ঠার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক