বাংলাদেশ অ্যালোকেশন রুলস, ১৯৮২ অনুযায়ী এ, বি ও সি শ্রেণির সরকারি বাসা বা বাড়ি সরাসরি বরাদ্দ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। এই নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে দাফতরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান প্রশাসনিক নীতিমালা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থেই এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
পূর্বে প্রচলিত নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে এখন থেকে সরকারি আবাসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে আরও কঠোর ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এ, বি এবং সি ক্যাটাগরির মতো গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক ভবনগুলোর ক্ষেত্রে যত্রতত্র সরাসরি বরাদ্দ প্রদানের সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রথার একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহлаগুলোর মতে, এর মাধ্যমে সরকারি সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হবে এবং আবাসন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিয়মের অবসান ঘটবে।
উল্লেখ্য, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সরকারি আবাসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রায়শই গণমাধ্যমে উঠে আসত। বিশেষ করে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও দলীয় প্রভাবে অনেকেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে একাধিক বাসা দখল করে রাখতেন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সময়ে এই ধরনের সিদ্ধান্ত আমলাতান্ত্রিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং বৈষম্য দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আবাসন পরিদপ্তর আশা প্রকাশ করেছে যে, নতুন এই নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন সংকট নিরসনে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট