দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ত্রাস সুন্দরবনের জলদস্যুতার অভিশাপ থেকে মুক্তির আরেকটি ঐতিহাসিক অধ্যায় রচিত হয়েছে। সুন্দরবনে দীর্ঘকাল ধরে সক্রিয় থাকা পাঁচটি ভিন্ন জলদস্যু বাহিনীর মোট উনষাট জন সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও বিশেষ অভিযานের মুখে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার এই পথ বেছে নেন। আত্মসমর্পণকারী এসব জলদস্যুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে তাদের গোপন আস্তানা এবং বনের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন তথা র্যাব।
অভিযানকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই দস্যুদের কাছ থেকে মোট উনষাটটি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচান্নটি তাজা গুলি, চোদ্দটি খালি কার্তুজ এবং যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত সাতটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের নদী ও খালের পাড়ে সাধারণ জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের ওপর এই জলদস্যু বাহিনীগুলো নানা ধরনের নির্যাতন ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিল। তাদের এই আত্মসমর্পণের ফলে সুন্দরবন অঞ্চলের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অভাবনীয় উন্নতি হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
বুধবার সকাল এগারোটায় র্যাব-৬-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে র্যাবের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে জলদস্যুদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দেন এবং অস্ত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া তদারকি করেন। সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করে র্যাব কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবনকে পুরোপুরি অপরাধমুক্ত ও জলদস্যুমুক্ত ঘোষণা না করা পর্যন্ত তাদের এই গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডেস্ক রিপোর্ট