সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হলে দেশের কিছু মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও পণ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তবে এই বাড়তি চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা গেলে বাজারে কোনো অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী এবং আমদানিকারকরা।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরবরাহ চৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন সচল রাখার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ফলে বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়লে সাধারণ মানুষের ওপর যেন মুদ্রাস্ফীতির অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সে বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল ও চিনির মতো নিত্যপণ্যের পাইকারি বাজারগুলোতে পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
অতীতে দেখা গেছে, যেকোনো বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের সময় অসাধু সিন্ডিকেটগুলো বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চালায়। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কঠোর মনিটরিং এবং বাজার তদারকি ব্যবস্থার কারণে অসাধু চক্রগুলো সেই সুযোগ পাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, সঠিক পরিকল্পনা ও আমদানিকারকদের সময়মতো এলসি খোলার সুযোগ দিলে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের পরও বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
এদিকে দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার ওপর বারবার গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সাথে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) নেতারাও বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাজার সিন্ডিকেটগুলোর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যার ফলে সাধারণ জনগণ চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছিল। এমনকি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর ছত্রছায়ায় বিভিন্ন নিত্যপণ্যের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে এবং ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করছেন যে, সরকারের সঠিক দিকনির্দেশনা ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে নতুন বেতন স্কেল বাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
ডেস্ক রিপোর্ট