নেপাল এবং তিব্বত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও বেশি জটিল ও সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে ১০৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এখনও নিখোঁজ রয়েছেন সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষ। আকস্মিক এই বিপর্যয়ের ফলে গোটা অঞ্চলে দেখা দিয়েছে মানবিক সংকট। উদ্ধারকর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, তবে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নেপালের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কয়েকটি টানেল। এসব টানেলের ভেতরে প্রায় ১০০ জন কর্মী আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আটকে পড়া এসব কর্মীকে জীবিত উদ্ধার করতে উদ্ধারকারীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কাদা ও ভারী ধ্বংসাবশেষ দ্রুত সরাতে খননযন্ত্র, ড্রিল মেশিন এবং এমনকি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরক ব্যবহার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করতে সব ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ও কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে।
প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের ফলে লাখ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিভিন্ন সাহায্যকারী সংস্থা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করতে কাজ করে যাচ্ছে। আবহাওয়ার উন্নতি না হলে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা আরও কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডেস্ক রিপোর্ট