এশিয়ার অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্য ও নৌপরিবহন রুটগুলোতে প্রতিদিন প্রায় একশটি চীনা নৌবাহিনীর জাহাজ সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক যুদ্ধজাহাজের এই নিয়মিত উপস্থিতি মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাপ্রণেতাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। কৌশলগত এই জলপথগুলোতে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার এবং বাণিজ্যিক রুটগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে চীন। এই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি ও প্রভাবকে প্রতিহত করতে চীনা যুদ্ধজাহাজগুলোর এই ব্যাপক উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে তাইওয়ান প্রণালী এবং দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের এমন সামরিক মহড়া ও নজরদারি কার্যক্রম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এশিয়ার সাগরে এই ক্ষমতার লড়াই কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নও। ওয়াশিংটন এই পরিস্থিতিতে তাদের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে মিলে যৌথ কৌশল নির্ধারণের ওপর জোর দিচ্ছে। তবে বেইজিং এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, তাদের নৌবাহিনীর এই নিয়মিত টহল এবং কার্যক্রম সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের সীমার মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি তাদের জাতীয় প্রতিরক্ষার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মাত্র।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক