সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ন

সচিবালয়ে নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের ৯ সিদ্ধান্ত

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩০ অপরাহ্ণ

প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যানবাহন ব্যবস্থাপনা, দর্শনার্থী পাস সংখ্যা সীমিতকরণ এবং ভবনভিত্তিক ডিজিটাইজড নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের পর দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে যে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে, তারই ধারাবাহিকতায় সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে প্রশাসন। অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সচিবালয়কে রাজনৈতিক দলীয় কার্যালয়ের মতো ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পেটোয়া বাহিনী বিভিন্ন সময় সচিবালয়ে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই অপসংস্কৃতি দূর করে সচিবালয়ের পবিত্রতা ও প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সচিবালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ, দর্শনার্থীদের পাস ইস্যুর ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই, গাড়ির স্টিকার প্রদানে স্বচ্ছতা আনা এবং প্রতিটি ভবনে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বৃদ্ধি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়ার অধিকার অক্ষুণ্ণ রেখে কীভাবে দালাল চক্র ও অপ্রয়োজনীয় লোকসমাগম রোধ করা যায়, সেটিই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্র পরিচালনার মূল কেন্দ্র সচিবালয়ে এই ধরনের যুগোপযোগী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার ফলে কাজের পরিবেশ আরও সুশৃঙ্খল হবে। অতীতে কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেভাবে দলীয় ক্যাডাররা প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করত, বর্তমান সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপে সেই সুযোগ চিরতরে বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সার্বিক এই সংস্কারমূলক উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

আরববাংলা টিভি/ডেস্ক

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD