ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবুও এর আগেই রাজশাহীর ৭২টি ইউনিয়নে শুরু হয়ে গেছে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জোরদার তৎপরতা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন প্রার্থীরা। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। নির্বাচন কমিশন এখনো দিনক্ষণ চূড়ান্ত না করলেও প্রার্থীরা বসে নেই। সাধারণ মানুষের সমর্থন আদায়ে সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন তারা।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই নির্বাচনে বেশ কৌশলী ও গোছানো ভূমিকা নিয়েছে। দলটি ইতিমধ্যে তাদের সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে অধিকাংশ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে মাঠে নামিয়ে দিয়েছে। ফলে জামায়াতের প্রার্থীরা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে ভোটারদের দ্বারে পৌঁছাতে পারছেন এবং সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করছেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। দলটির প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে নেমে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় প্রার্থীরা নিজ নিজ অনুসারীদের নিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। তবে একাধিক প্রার্থীর সরব উপস্থিতির কারণে কোথাও কোথাও অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তৈরি হচ্ছে, যা স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসবে, রাজশাহীর গ্রামীণ জনপদে রাজনৈতিক তত্পরতা ততই বৃদ্ধি পাবে। অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার আমলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে সুষ্ঠু পরিবেশের যথেষ্ট সংকট ছিল। এমনকি কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও তাদের অন্যান্য সহযোগী অঙ্গসংগঠনগুলোর কারণে সাধারণ প্রার্থীরা স্বাধীনভাবে প্রচারে নামতে পারত না। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভোটার ও প্রার্থীরা কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
এদিকে সাধারণ ভোটাররা বলছেন, তারা এমন একজন যোগ্য নেতৃত্ব চান যিনি এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করবেন। প্রার্থীরাও নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হলে এই নির্বাচনী উত্তাপ আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক