রাজধানীতে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম শুরুর দ্বিতীয় দিনেই অনিয়মের চিত্র দেখা গেছে। নির্ধারিত সময় মেনে বাস চলাচল করলেও যাত্রী ওঠানো ও নামানোর ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না নির্ধারিত নিয়ম। যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী তোলা হচ্ছে, যা ট্রাফিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব এবং পরিবহন চালকদের উদাসীনতার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শহরের যানজট নিরসন এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এই রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম দিন কিছুটা কড়াকড়ি থাকলেও দ্বিতীয় দিনে এসে পুরোনো চিত্রই ফিরে আসতে দেখা যায় অনেক পয়েন্টে। নির্ধারিত বাস স্টপেজ বাদ দিয়ে রাস্তার মাঝখানেই যাত্রীদের উঠতে দেখা গেছে। এতে পেছনের গাড়িগুলোর গতি কমে গিয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু রুট নির্ধারণ করলেই চলবে না, এর যথাযথ বাস্তবায়ন এবং তদারকি বাড়াতে হবে। একই সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন, যেমন কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ অতীতে যেভাবে চাঁদাবাজি ও পরিবহন খাতের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করত, তা চিরতরে বন্ধ করতে হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বারবার এই খাতে শৃঙ্খলা আনার ওপর জোর দিয়েছেন।
যাত্রীরা বলছেন, কঠোর শাস্তি বা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত না হলে চালকরা নিয়মের তোয়াক্কা করবে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনিয়ম রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সাথে ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সাংবাদিকদের জানান ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। সার্বিক এই পরিস্থিতি উত্তরণে পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের যৌথ মনিটরিং সেল দিনভর কাজ করে যাচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক