বর্ষার শুরুতে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে তীব্র আকারে দেখা দিয়েছে ভাঙন। নদীভাঙনে প্রতিদিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের ভিটেমাটি, বসতঘর, আবাদি কৃষিজমিসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সময়মতো জোরালো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এতে করে পানিবন্দি ও বাস্তুহারা মানুষের সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে, যা জনজীবনকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বান্দরবান ও আলীকদম প্রতিনিধি গণমাধ্যমকে জানান, বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার সদর ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ভাঙনের মাত্রা এতটাই প্রকট রূপ ধারণ করেছে যে মুহূর্তের মধ্যে মানুষের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদীভাঙনের শিকার হয়ে এসব এলাকার শত শত পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের এই ভয়াবহ রূপ থেকে রক্ষা পেতে এবং দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন এবং সময়মতো নদীশাসন না করার কারণেই বর্ষার শুরুতেই এই ধরনের ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়তে হয় জনপদগুলোকে। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সামান্য ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। সাধারণ মানুষের দাবি, কেবল সাময়িক ত্রাণ নয়, বরং স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর প্রকৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক