ছয় বছর আগে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজ শেষ হলেও নানা জটিলতায় এতদিন চালু করা সম্ভব হয়নি বগুড়ার ১০ শয্যার বার্ন ইউনিট। প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকটের কারণে তালাবদ্ধ পড়ে থাকা এই ইউনিটটি অবশেষে অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার বদলে সাধারণ রোগীদের জন্য আইসিইউ ও সিসিইউ হিসেবে চালুর নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত থাকা চিকিৎসাসেবা কাঠামোর কিছুটা সুফল মিলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় গণমাধ্যমকে চিকিৎসকরা জানান, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতের চরম অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতির কারণে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে ছিল। অথচ এই অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ প্রতিনিয়ত অগ্নিকাণ্ড ও নানা দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়ে উন্নত চিকিৎসার অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছেন। বার্ন ইউনিটের মতো একটি অতি সংবেদনশীল বিভাগ এভাবে বছরের পর বছর বন্ধ থাকা সরকারের প্রশাসনিক স্থবিরতাকেই স্পষ্ট করে তোলে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ জানিয়েছে, জনবল সংকটের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়েই সমাপ্ত প্রকল্পের এই অবকাঠামোটিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অন্তত সংকটকালীন সময়ে গুরুতর অসুস্থ রোগীরা কিছুটা হলেও চিকিৎসা সুবিধার আওতায় আসবেন। তবে স্থানীয় সচেতন মহল এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অবিলম্বে এই ইউনিটটিকে এর মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ ডেডিকেটেড বার্ন ইউনিট হিসেবেই পূর্ণাঙ্গ জনবল ও সরঞ্জাম দিয়ে চালুর জোরালো দাবি জানিয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক