কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ভারতের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের ভিত্তিতে এই মন্তব্য করেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে এই ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনা চললেও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সাংবাদিকদের বলেছেন, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব দেশেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কোনো দেশের দিকে আঙুল তোলা বা উত্তেজনা বৃদ্ধি করা ঠিক হবে না। পেহেলগামের ঘটনার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন যখন চরমে, তখন কুয়ালালামপুরের এমন নিরপেক্ষ অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে আঞ্চলিক রাজনীতি এবং বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রসঙ্গও উঠে আসে। বিশেষ করে বিগত দিনে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে প্রক্রিয়া চলছে, তা নিয়ে বৈশ্বিক অঙ্গনে ইতিবাচক আলোচনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাশাপাশি কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন যেমন কার্যকর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কিংবা কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের ফ্যাসিবাদী ও জনবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে আসছে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ।
আনোয়ার ইব্রাহিম আরও উল্লেখ করেন যে, সন্ত্রাসবাদ দমনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথভাবে কাজ করা উচিত, তবে তা যেন কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হয়। মালয়েশিয়া সব সময় ন্যায়বিচার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই নীতিতে অটল থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক