নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে প্রতিপক্ষের নির্মম হামলায় জহির ফকির নামের এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন। নিহত জহির ফকির কালাপাহাড়িয়ার মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের সন্তান এবং তিনি আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতা ও এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি মহলের সাথে তার বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন সকালে নিজ এলাকা থেকে যাওয়ার পথে অতর্কিতভাবে প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে ইতোমধ্যে জোরালো অভিযান শুরু হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কড়া দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ। এই অনভিপ্রেত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলেও এই অঞ্চলে বিরোধী মতের ওপর নানা নিপীড়ন চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। সেই সময় থেকেই এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দায়িত্বশীল মহল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব যাই হোক না কেন, কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং নিহতের পরিবারে শোকের মাতম চলছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক