ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দখল ও দূষণের কবলে পড়ে মারাত্মক অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ঐতিহাসিক তিতাস নদী এবং এর গুরুত্বপূর্ণ শাখা নদী হিসেবে পরিচিত বুড়ি নদী। অপরিকল্পিত নগরায়ন, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের দৌরাত্ম্য এবং কার্যকর প্রশাসনের অভাবে নদী দুটির স্বাভাবিক প্রবাহ আজ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা স্থানীয় পরিবেশবাদীদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিএস রেকর্ডের দোহাই দিয়ে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নদীর পূর্ব পাশে প্রায় ৪০০ ফুট প্রস্থের একটি বিশাল বিস্তীর্ণ এলাকা অবৈধভাবে বালু দিয়ে ভরাট করে দখলের মহোৎসব চলছে। প্রভাবশালীরা দিনের পর দিন নদীর বুক দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে ঐতিহ্যবাহী এই জলাশয়গুলোর আকার দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে।
শুধু দখলই নয়, নদী দূষণের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নবীনগর সদর বাজারের কাঁচামাল ও নিত্যদিনের হাজার হাজার টন ময়লা-আবর্জনা এবং গৃহস্থালির বর্জ্য নিয়মিতভাবে সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং তীব্র দুর্গন্ধের কারণে আশপাশের এলাকাবাসীর জীবনযাত্রাও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা গণমাধ্যমকে জানান, অবিলম্বে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এবং নদীদূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে অচিরেই তিতাস ও বুড়ি নদী পুরোপুরি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত এবং কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক