রাজধানী ঢাকায় ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো আকস্মিক দুর্যোগে সার্বিক পরিস্থিতি দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে এক লাখ প্রশিক্ষিত শহর প্রতিরক্ষা দল বা টিডিপি স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রাখার একটি যুগান্তকারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজধানীজুড়ে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকি যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা বিবেচনা করে এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
দুর্যোগের সময় এসব স্বেচ্ছাসেবক মাঠপর্যায়ে উদ্ধারকাজ পরিচালনা, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই প্রাথমিক প্রস্তুতি ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করতে এই বাহিনী অত্যন্ত কার্যকরী হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খুব শীঘ্রই পর্যায়ক্রমে এই ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হবে।
অতীতে বিভিন্ন সময় দেখা গেছে, কার্যকর জনবলের অভাবে বড় ধরনের দুর্যোগের পর তাৎক্ষণিক উদ্ধার কার্যক্রমে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। এই পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য স্থানীয় যুবসমাজ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে যেকোনো জাতীয় সংকটে তারা অবিলম্বে আত্মনিয়োগ করতে পারেন।
কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উদ্ধার কার্যক্রমে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক স্বজনীপ্রীতির অভিযোগ ছিল। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে, যা নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক