পবিত্র ঈদুল আজহার চতুর্থ দিনে রোববার রাজধানীর অন্যতম প্রবেশপথ কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফেরা কর্মজীবী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। টানা সাত দিনের ছুটির শেষদিনে আজ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পেশাজীবী অনেক মানুষ কিছুটা আগেই কর্মব্যস্ত শহরে ফিরছেন। যাত্রীরা বলছেন, যাওয়ার সময় যতটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে, সেই তুলনায় স্বস্তিতে ফিরেছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা থেকে যাত্রী নিয়ে ফিরেছে অন্তত ১০টি ট্রেন। প্রত্যেকটি ট্রেনেই যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রীদের বড় একটি অংশ নেমে যাওয়ার পরও কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছানো প্রায় প্রতিটি ট্রেনেই সিটে বসার পর দাঁড়িয়ে যাত্রী নিয়ে ফিরতে দেখা গেছে। অবশ্য ঈদের আগে ট্রেনের ছাদে চড়ে গ্রামে ছুটতে দেখা গেলেও ফেরার সময় কাউকেই ছাদে চড়ে ফিরতে দেখা যায়নি।
বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে সিরাজগঞ্জ থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছেছে ‘সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস’। এই ট্রেনের যাত্রী সাজ্জাদ জানান, সোমবার কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। কাল ভিড় বেশি হতে পারে ভেবে একদিন আগেই পরিবার নিয়ে ঢাকায় ফিরলাম। আমাদের ট্রেনে কিছু যাত্রী দাঁড়িয়ে এলেও যাওয়ার সময়ের তুলনায় ভিড় কম ছিলো। আমরা অনলাইনে টিকিট কেটে সিটে বসেই ফিরতে পেরেছি।
বেলা সাড়ে ১১টায় কিশোরগঞ্জ থেকে ‘এগারোসিন্ধু’ ট্রেনটি ফিরেছে। এই ট্রেনেও সিটে বসা যাত্রীদের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে অনেককে ফিরতে দেখা গেছে।
দুুপুর ১টার দিকে জামালপুর থেকে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া এক্সপ্রেস’ যাত্রী বোঝাই হয়ে ফিরেছে। এই ট্রেনের এক যাত্রী জানান, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ট্রেনটি জামালপুর থেকে ছেড়ে এসেছে। তাদের ঢাকায় ফেরার যাত্রা অনেকটা স্বস্তিদায়ক ছিলো।
দুপুর সোয়া ১টায় নোয়াখালী থেকে ফিরেছে ‘উপকূল এক্সপ্রেস’। এই ট্রেনেও সিটে বসার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে যাত্রী নিয়ে ফিরতে দেখা গেছে। ট্রেনটির কয়েকজন যাত্রী স্বস্তিদায়কভাবে ফেরার কথা জানালেও দুই একজন যাত্রী ভোগান্তির কথা জানিয়েছে। এই ট্রেনে নোয়াখালী থেকে ফেরা একজন নারী যাত্রী তার ব্যবহৃত গলার সোনার চেইন হারানোর অভিযোগ করেন। পরে আনসার বাহিনীর কয়েকজন সদস্য চেইন খুঁজতে তল্লাশি চালিয়েও তা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ‘সুবর্ণ এক্সপ্রেস’ যাত্রী ভর্তি করে কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছেছে। এই ট্রেনটিতেও সিটে বসার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে যাত্রী নিয়ে ফিরতে দেখা গেছে।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকটি ট্রেন ছেড়ে আসতে দেরি হওয়ায় ঢাকায় পৌঁছাতেও দেরি হয়েছে। বিশেষ করে নোয়াখালী, জামালপুর ও চট্টগ্রাম থেকে আসা যাত্রীরা ট্রেনগুলো দেরিতে ছাড়ার অভিযোগ করেন।
এদিকে ঢাকায় ফেরার পাশাপাশি অনেকেই এখনো পরিবারের সঙ্গে ঈদ পরবর্তী সময় কাটাতে গ্রামের বাড়িতে ছুটছেন। ডিউটিরত কয়েকজন টিটিইর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন যারা গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই অগ্রিম টিকিট কেটে রেখেছিলেন।