সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন

টাঙ্গাইলে চিকিৎসাসেবায় জিম্মি সাধারণ মানুষ

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

টাঙ্গাইলে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ চিকিৎসাসেবায় কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) আধিপত্যের কারণে সাধারণ রোগীরা দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সিভিল সার্জনের কার্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বিভিন্ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও চিকিৎসকদের একাংশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত স্বৈরাচারী শাসন আমলে চিকিৎসাসেবা খাতকে দলীয়করণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছিল। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের সময় এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছায়। ওই সময়ে পদোন্নতি, পোস্টিং এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ দখলে রেখে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিল চিকিৎসকদের এই রাজনৈতিক মোর্চা। এর ফলে সাধারণ চিকিৎসকরা যেমন কোণঠাসা ছিলেন, তেমনি সাধারণ রোগীরাও তাদের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হতেন।

চিকিৎসকদের এই রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের কারণে টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দুর্নীতি, ঔষুধ বিতরণে অনিয়ম এবং চিকিৎসকদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতি নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছিল। সাধারণ রোগীরা জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে তাদের নামমাত্র চিকিৎসাসেবা দিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হতো। ওইসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটি বড় অংশের সঙ্গে এই সিন্ডিকেটের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছিল বলে গণমাধ্যমকে জানান স্থানীয় রোগীরা।

বর্তমানে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের দাবি জোরালো হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসাসেবা প্রত্যাশীরা অবিলম্বে এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্যসেবাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হয়েছে যেন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে টাঙ্গাইল জেলার ৪০ লাখ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত ও বৈষম্যহীন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়।

আরববাংলা টিভি/ডেস্ক

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD