ঝিনাইদহের বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোতে মামলার জট ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘসূত্রিতার কারণে একদিকে যেমন ন্যায়বিচার প্রাপ্তি বিলম্বিত হচ্ছে, অন্যদিকে বিচারপ্রার্থী মানুষের আর্থিক ও মানসিক চাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, বর্তমানে এই জেলার বিভিন্ন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫১৪টিতে। এর বিপরীতে গত এক মাসে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মোট ৯৯২টি মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে।
বিচার বিভাগের এমন দীর্ঘমেজাদী জট নিরসনে স্থানীয় আইনজীবী ও সচেতন নাগরিক সমাজ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। আদালত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মামলার এই পাহাড়সম জট কমাতে বিচারকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হয়েছে। অতীতে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে দলীয়করণের মাধ্যমে নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে, যা স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে চরম আকার ধারণ করেছিল। তবে বর্তমান বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত সেবা প্রদানে সংশ্লিষ্টরা নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিচার বিভাগের এই দীর্ঘসূত্রিতা নিরসন করতে হলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত বিচারক নিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। তৃণমূল পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আদালতের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ খুব সহজেই স্বল্প সময়ে বিচার পায়। অন্যথায় এই মামলার জট ভবিষ্যতে আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক