ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি জামায়াতে ইসলামী নমনীয় অবস্থান নিয়েছিল বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তাঁর মতে, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের পর ইতিহাসের এই নির্মম অধ্যায়ের এক মাস অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই জামায়াত রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ থেকে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে একপ্রকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিল।
রাশেদ খাঁন আরও উল্লেখ করেন যে, ছাত্র-জনতার রক্তে ভেজা এই নতুন বাংলাদেশে কোনো অপরাধীচক্রের সঙ্গেই আপস করার সুযোগ নেই। ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা যাতে কোনোভাবেই পুনর্বাসিত হতে না পারে, সে বিষয়ে দেশের সকল দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে, জুলাই-আগস্টের গণহত্যায় সরাসরি জড়িত থাকায় কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং তাদের সমমনা সব সহযোগীদের বিচার নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে স্পষ্ট করে দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের মন্তব্য দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের দুঃশাসন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা যে রক্তক্ষয়ী লড়াই করেছে, তার প্রকৃত সুফল পেতে হলে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর এই বক্তব্য আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে একটি বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে সচেতন মহল মনে করছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক