খেলাধুলা ছেড়ে ইন্টারনেটভিত্তিক গেম ও অনলাইন জুয়ায় মারাত্মকভাবে ঝুঁকছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার শিশু-কিশোররা। বর্তমান ডিজিটাল যুগে এই ভয়াবহ আসক্তির কারণে একদিকে যেমন শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নানা ধরনের শিশু অপরাধ প্রবণতা। একসময় বিকালের সোনালী আলোয় সরগরম হয়ে উঠত গ্রামীণ মাঠগুলো। কোথাও চলত ফুটবল কিংবা ক্রিকেটের জমজমাট লড়াই, আবার কোথাও ঐতিহ্যবাহী গোল্লাছুট, হাডুডু কিংবা দাঁড়িয়াবান্দা খেলার আনন্দে মেতে উঠত কচিকাঁচারা। সন্ধ্যার ঠিক আগে ক্লান্ত শরীরে মাঠ ছেড়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরত শিশুরা। কিন্তু কালের বিবর্তনে এবং আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে সেই চিরচেনা চিত্র আজ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। মাঠের সবুজ ঘাস আর মাটির গন্ধ ছেড়ে আজকের প্রজন্ম বন্দী হয়ে পড়েছে স্মার্টফোনের ছোট স্ক্রিনে।
স্থানীয় সচেতন মহল এবং অভিভাবকরা এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমান প্রজন্মের এই বিপথগামিতা রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার অ্যাপ ও সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক গেমের প্রলোভনে পড়ে কোমলমতি শিশুরা নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অনেক সময় জুয়ার টাকা জোগাড় করতে তারা জড়িয়ে পড়ছে চুরি কিংবা বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, শিশুদের মাঠমুখী করতে না পারলে ভবিষ্যতে একটি অসুস্থ ও অপরাধপ্রবণ প্রজন্ম গড়ে ওঠার ঝুঁকি রয়েছে। তাই কেবল পারিবারিক নয়, বরং সামাজিকভাবেও খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক