বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজার এক্সপ্রেসের টিকেট ‘নয়ছয়’ করছে কারা, র‌্যাবকে তদন্তের নির্দেশ

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১:৫৪ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার-ঢাকা রুটের “কক্সবাজার এক্সপ্রেস” ট্রেনের টিকেট সিন্ডিকেটের হাতে যাচ্ছে কিনা বা কালোবাজারি হচ্ছে কিনা, এর সঙ্গে কারা জড়িত- এসব বিষয় তদন্তে র‌্যাবকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংস্থাটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেছেন। মামলার পর র‌্যাব-১৫-কে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।

কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ১-এর বিচারক শ্রীজ্ঞান তঞ্চঙ্গ্যা রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে মামলাটি করেন।

র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) মো. আবু সালাম চৌধুরী বলেন, “আদালতের আদেশটি এখনো হাতে পৌঁছায়নি। পৌঁছানোর পর যথাযথভাবে তদন্ত করবে র‌্যাব।”

বাণিজ্যিকভাবে যাত্রীবাহী কক্সবাজার এক্সপ্রেস চলাচল শুরু হয় ১ ডিসেম্বর থেকে। চলাচল শুরুর দিন থেকেই এই ট্রেনের টিকেট নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ উঠতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যমেও এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজারে রেলের টিকেট শতভাগ কালোবাজারি সিন্ডিকেটের দখলে চলে গেছে। আর অতিরিক্ত দেড় থেকে ২০০ টাকা দেওয়া হলেই মিলছে টিকেট। প্রতিদিনই কাউন্টারে গিয়ে পাওয়া যায় না টিকেট, অনলাইনেও দুয়েক মিনিটের পর আর টিকেট পাওয়া যায় না।

ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ৩৪৬ কিলোমিটার। কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনে শোভন চেয়ারের ভাড়া ভ্যাটসহ ৬৯৫ টাকা, এসি চেয়ারের ভাড়া ১,৩২৫ টাকা, এসি সিটের ভাড়া ১,৫৯০ টাকা এবং এসি বার্থের (ঘুমিয়ে যাওয়ার আসন) ভাড়া ২,৩৮০ টাকা।

প্রসঙ্গত, ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকায় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেললাইন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার এবং রামু থেকে কক্সবাজার ১২ কিলোমিটার।

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের প্রায় সাত বছর পর ২০১৮ সালে ডুয়েল গেজ ও সিঙ্গেল ট্র্যাক রেললাইন প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথমে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ১,৮৫২ কোটি টাকা। পরে প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করায় ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৮,০৩৪ কোটি টাকায়।

এতে অর্থায়ন করেছে এশিয়ান ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকার। এডিবির ঋণ ১৩,১১৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা আর ৪,৯১৯ কোটি সাত লাখ টাকা বাংলাদেশ সরকারের।

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD