ইরানি এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত একতরফা নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তীব্র বিরোধিতা প্রকাশ করেছে চীন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক সাক্ষাৎকারে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করার পর পরই বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এই কঠোর প্রতিক্রিয়া এলো। চীন পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছে, কোনো দেশের একক বা একতরফা নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং তা বিশ্ব বাণিজ্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে একজন মুখপাত্র জানান যে, সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক ও বিমান চলাচলের ওপর এ ধরনের অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যেভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করে চলেছে, তা বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীন এবং ইরানের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বৈধ এবং তা আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির আলোকেই পরিচালিত হয় বলে জানিয়েছে বেইজিং।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এর আগে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশের মতো বিভিন্ন দেশেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছিল, যদিও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মার্কিন অর্থমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। চীন জানিয়েছে, তারা ইরানের পাশে থেকে এ ধরনের অন্যায্য ও একতরফা নিষেধাজ্ঞার জোরালো প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবে এবং আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের বাণিজ্যিক অধিকার রক্ষায় সব ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক