সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ন

চরফ্যাসনে ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, আহত ৩০

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৪ ১:৪২ pm

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার চরফ্যাসনে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় হামলাকারীরা তার বসত ঘরে ঢুকে আসবাব পত্র ভাংচুর ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সহ স্বর্ণলংকার লুটে নেওয়া হয়েছে। হামলায় চেয়ারম্যান এর স্ত্রী জোবায়েদা খানম, বড় ভাই মো. ফারুক হোসেন, ছোট ভাই ওয়াহিদুজ্জামান টুটুল, বাড়ির গৃহ পরিচালক জমিদার ইস্রাফিল, গৃহ পরিচারিকা জাহানারা বেগম, চেয়ারম্যানের ছোট মেয়ে সুলতান ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস সহ প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা আহতের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। এ ঘটনায় ওই এলাকা জুড়ে আতংক বিরাজ করছিল। গত ২৫ আগস্ট রোববার সকালে দুলারহাট থানার নীলকমল ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন লিখনের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন লিখনের ভাগিনা মো. জুয়েল জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করলে চরফ্যাসনের ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে শুধুমাত্র নীলকমল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন লিখন এলাকায় থেকে ইউনিয়নবাসীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নওরোজ বাবুল সহ স্থানীয় সংঘবদ্ধ চক্র আমার মামা ইকবাল হোসেন লিখন চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিতে চাপ প্রয়োগ করে। তিনি সংঘবদ্ধ এ চক্রের চাপ প্রয়োগ আমলে না নেওয়ায় গত ২৫ আগস্ট সকালে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নওরোজ বাবুলের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ দুষ্কৃতিকারীরা প্রায় ৫ শতাধিক লোকজন নিয়ে প্রথমে মাইকে ঘোষণা দিয়ে নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদে হামলা চালায় ও সিসি ক্যামেরা ভাংচুর করে।

এসময় চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন লিখনকে পরিষদে না পেয়ে ওই দুস্কৃতিকারীরা লাঠি, রড ও বগিদা নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করেন। কিছু বুঝে উঠার আগেই হামলাকারীরা তার বসত ঘরে আসবাবপত্র ভাংচুর করে ও স্বর্ণাংকার লুটপাট করে এবং ঘরে থাকা মূল্যবান আসবাবপত্র নিয়ে যায়। এ সময় দুস্কৃতিকারীদের উল্লাস করতে দেখা গেছে। এ সময় নওরজ বাবুল ও ইউপি সদস্য মোঃ আলম চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন লিখনকে বিভিন্ন কক্ষে খোঁজেন এবং চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেয়ার জন্য পরিবারের সদস্যদেরকে চাপ প্রয়োগ করে।

ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন লিখন জানান, তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পারিবারিক কাজে ভোলা সদরে অবস্থান করছিলেন। এ সুযোগে নীলকমল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ নওরোজ বাবুলের নেতৃত্বে স্থানীয় সংঘবদ্ধ দুস্কৃতিকারীরা লাঠি, রড ও বগি দা নিয়ে তার বাড়িতে বিবর্ষ হামলা ভাংচুর ও লুটপাট করে। এ সময় হামলাকারীরা তার ঘরে থাকা মূল্যবান আসবাবপত্র নিয়ে যায় এবং তার ঘরে থাকা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও বেশ কিছু স্বর্ণলংকার লুটে নিয়ে যায়। পাশাপাশি তার ঘরে বিদ্যুৎ লাইন ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় হামলাকারীরা। এ সময় তাদের হামলায় চেয়ারম্যান পরিবারের তিন সদস্যসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। তবে নীলকমল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নওরোজ বাবুল তার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নীলকমলের মোসলে উদ্দিন মিয়া জানান, ২০২৩ সনের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে নীলকমল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন লিখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নৌকার প্রার্থীকে হারিয়ে তিনি বিপুলভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। জনপ্রিয় এ চেয়ারম্যানের নির্বাচনের সময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নওরোজ বাবুল দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নৌকা প্রতিকের আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলমগীর হাওলাদারের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালায় ও ১টি কেন্দ্রে নৌকা মার্কার এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দুলারহাট থানার ওসি মাকসুদুর রহমান মুরাদ জানান, ঘটনাটি শুনেছি। তবে নৌ-বাহিনী না আসায় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যেতে পারেননি। উল্লেখ্য, জনপ্রিয় চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইকবাল হোসেন লিখন ও তার পিতা মরহুম সুলতান আহমেদ মাস্টার ৪০ বছর ধরে নীলকমল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD