ভারতে কয়লার গুহায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও আহত হয়েছে আরও চারজন। সোমবার (১৮ মার্চ) রাত ১১টার দিকে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্তে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের ১১৯৮ আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ২এস এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালে পাঠিয়েছে তাহিরপুর থানার পুলিশ। নিহতরা হলেন- উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের লাকমা নয়াপাড়া (৩ নং ওয়ার্ড) গ্রামের বাসিন্দা শাহাব উদ্দিনর ছেলে খায়রুল মিয়া (২৭) ও একেই গ্রামের রমজান মিয়ার ছেলে মুকলেছ মিয়া (২৫)। নিহতরা সম্পর্কে ভায়রা ভাই।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার সীমান্তের চিহ্নিত চোরাচালানিদের প্ররোচনায় লাকমা গ্রামের ১০-১৫ জন যুবক রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে ট্যাকেরঘাট স্কুল ও লাকমা বাজার মধ্যে দিয়ে চোরাই পথে ভারতের কয়লা গুহা থেকে কয়লা আনতে যায়। সেখানে একাধিক গুহা থাকলেও যে গুহাটিতে খায়রুল ও মুকলেছ প্রবেশ করে সেটিতে অক্সিজেন পাওয়া যায় না, আর বিষাক্ত গ্যাসে দম বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে কেউই ওই গুহায় যায় না। কিন্তু তারা দুজন কাউকে না জানিয়ে ওই গুহার ভিতরে প্রবেশ করলে অক্সিজেন সংকটে পড়ে। এ সময় বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ হয়ে ভেতরেই পড়ে থাকে তারা।
পরে তাদের গুহার ভিতরে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে সঙ্গে থাকা সহযোগীরা তাদের উদ্ধার করে বাহিরে নিয়ে আসে। পরে দুজনকেই রাত ১২টায় তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ওই গুহা থেকে নিহত দুই যুবককে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও চারজন আহত হয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হাসপাতালে আসার পূর্বেই দুই যুবককে মৃত্যু হয়েছে।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।