ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার এক দফা দাবিতে রাজধানীর মিরপুর ও পল্লবী এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে তীব্র সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। শনিবার সকাল থেকেই মিরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে হাজার হাজার শ্রমিক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এই দীর্ঘ সময় সড়ক অবরুদ্ধ থাকায় মিরপুর থেকে আগারগাঁও, ফার্মগেট ও গাবতলীগামী প্রধান সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে অফিসগামী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় আটকে থেকে নারী ও শিশুদের অনেকে চরম ভোগান্তির শিকার হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, শ্রমিক নেতারা জানান, বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে তাদের পক্ষে এই স্বল্প বেতনে জীবনযাপন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে তারা রাজপথে নেমেছেন। এর আগে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শ্রমিকদের ওপর বিভিন্ন সময় দমন-পীড়ন চালানো হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকেরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য সোচ্চার হয়েছেন। একই সঙ্গে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এই শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কোনো ধরনের নাশকতা করতে না পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করে।
দীর্ঘ আলোচনার একপর্যায়ে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে দুপুরের পর শ্রমিকেরা ধীরে ধীরে সড়ক ছেড়ে চলে যান। এরপর ধীরে ধীরে মিরপুরের ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে এই ঘটনায় শ্রম বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা নিরসনে মালিকপক্ষ ও সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক